Thursday, January 31, 2019

বগুড়ার শাজাহানপুরে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক কারবারি আটক

বগুড়া  উত্তর ডটকম : (জিয়াউর রহমান, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুরে ৪০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের ব্যবহৃত হিউম্যান হলার জব্দ করা হয়েছে।


আটককৃতরা হলেন, হিউম্যান হলার চালক উপজেলার রহিমাবাদ দক্ষিনপাড়ার মৃত মোবারক আলীর পুত্র হুমায়ন কবির (৩২) এবং হেলপার কাটাবাড়িয়া গ্রামের ইমতিয়াজ আলীর রাজু আহমেদ (২৪)।
এ ঘটনায় থানার এসআই রুম্মান হাসান বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদক মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামীদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এসআই রুম্মান হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মাঝিড়াবন্দর এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে চেকপোষ্ট বসিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের ব্যবহৃত হিউম্যান হলারের চালকের সিটের নীচ থেকে ৪০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। হিউম্যান হলার জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের নিয়মিত মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

দুপচাঁচিয়ায় ফার্নিচারের কারখানায় অগ্নিকান্ড।। ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি

বগুড়া  উত্তর ডটকম : (দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি আবু রায়হান) : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদ রোডে মন্ডলপাড়ার সামনে অবস্থিত টুটুল কাঠ এন্ড স্টিল ফার্নিচারের ঢেউটিন দিয়ে তৈরি কারখানায় অগ্নিকান্ডে কাঠ, পারটেক্স বোর্ড ও স্টিলের তৈরি আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার দিবাগত রাতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হলে পাশের ভবনের মালিক আগুন দেখতে পেয়ে কারখানার মালিক বিধান কুমার সাহা টুটুলকে মোবাইল ফোনে জানান। টুটুল কারখানায় উপস্থিত হয়ে আগুনের তীব্রতা দেখে দুপচাঁচিয়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে খবর দিলে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পার্শ্ববর্তী কাহালু ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ইউনিটকে খবর দিলে দুই ইউনিট মিলে প্রায় দেড়ঘন্টা ব্যাপী অভিযান চালিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। ততক্ষণে কারখানাসহ কারখানায় রাখা সকল আসবাবপত্র, কাঠ ও পারটেক্স বোর্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
 
কারখানার মালিক বিধান কুমার সাহা টুটুল বলেন, তার বাড়ি ও শো-রুমের পিছনে কারখানায় অগ্নিকান্ডে আনুমানিক ১৬ হতে ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
 
দুপচাঁচিয়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এর ইউনিট লিডার রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

প্রকাশ হয়েছে অপূর্ব, তাহসান ও নিশোর ‘দ্বিতীয় কৈশোর’ (ভিডিওসহ)

জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তাহসান খান ও আফরান নিশোর ‘দ্বিতীয় কৈশোর’ প্রকাশ হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘বায়োস্কোপ’-এ ৬০ মিনিট দৈর্ঘ্যরে ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পেয়েছে।
  




এদিকে এটাই প্রথম  প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তাহসান খান ও আফরান নিশো। ওয়েব ফিল্ম ‘দ্বিতীয় কৈশোর’র মাধ্যমে তাদের তিনজনকে এক করেছেন নির্মাতা শিহাব শাহীন।  

জানা গেছে, ত্রিশের কোঠায় থাকা তিন তরুণের ভিন্নধর্মী সঙ্কটের গল্প নিয়ে এগিয়েছে ওয়েব ফিল্মের কাহিনি।  নির্মাতা শিহাব শাহীন বলেন, ‘এই তিন তারকাকে একসঙ্গে পাওয়া বেশ কঠিন। তবে গল্পের প্রয়োজনে প্রথমবারের মতো তারা এক হয়েছেন। নির্মাণের দিক দিয়ে কাজটি চলচ্চিত্রের আদলে করা হয়েছে।’ 

 তিনি আরও বলেন, ‘বিনোদনের ক্ষেত্রে ওয়েব প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নতুন আইডিয়া ও কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের উৎসাহিত করছে। প্রেম-ভালোবাসা ও জীবন দর্শনের মজাদার ও উপভোগ্য দিক নিয়ে নির্মিত নতুন ধরনের কাজটি আশা করি দর্শকপ্রিয়তা পাবে।’ 

 অপূর্ব, তাহসান ও আফরান নিশোর পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করেছেন সানজীদা প্রীতি, রাইসা অর্পা, নাজিয়া হক অর্ষা, রিফাত জাহান ও আবুল হায়াত প্রমুখ।  ‘দ্বিতীয় কৈশোর’ ওয়েব ফিল্মটি দেখতে নিচে  ক্লিক করুন

Tuesday, January 29, 2019

নন্দীগ্রামে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বগুড়া  উত্তর ডটকম : (নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি মো: ফিরোজ কামাল ফারুক) : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের রণবাঘা বাজারসহ মহাসড়কের দেড় পাশের প্রায় দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।


মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল এ অভিযান চলে। এতে নেতৃত্ব দেন সওজ অধিদপ্তরের উপ-সচিব এবং ঢাকা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী। এ সময় অনেকর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: শারমিন আখতার, বগুড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে দুটি বুলডোজার দিয়ে রণবাঘা মহাসড়কের দুই পাশের প্রায় দেড় শতাধিক দোকান ও বিল্ডিং সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
 
সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়, বগুড়ার নন্দীগ্রামের কুন্দারহাট থেকে রণবাঘা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে দিনব্যাপী এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সওজ এর পক্ষ থেকে কয়েক দফা অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেয়া হলেও কর্ণপাত করেনি দখলকারীরা।
 
বগুড়ার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আশরাফুজ্জামান জানান, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের দুই পাশে কুন্দারহাট থেকে রণবাঘা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ ব্যক্তি অবৈধভাবে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এসব সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। পরে এক সপ্তাহ আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারিসহ মাইকিং করে মঙ্গলবার উচ্ছেদ করার কথা জানানো হয়।
 
প্রথম দিন বগুড়া-নাটোর মহাড়কের রণবাঘা বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দেড় শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত এ অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

বগুড়া র‌্যাবের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বগুড়া  উত্তর ডটকম :  র‌্যাব-১২, বগুড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখ ০৬.৪৫ ঘটিকায় বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন রানিহাট বাজারস্থ তিন ভাই ফার্নিচার প্রোঃ জনৈক মোঃ ইউনুস আলী এর সামনে বগুড়া টু নাটোর হাইওয়ে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে||



 মোট ৪০ (চল্লিশ) বোতল ফেন্সিডিল, ০২টি মোবাইল ফোন, ০৪টি সিম, ০১(এক) টি মাইক্রোবাস এবং নগদ ৩১০/-(তিনশত দশ) টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী ১। শ্রী বাদল চন্দ্র দাস(৩০), পিতা মৃত নরেন্দ্র বিশা দাস, সাং মধু মাঝিরা পানাতাপাড়া, থানা ও জেলা বগুড়া, ২। শ্রী রনজিত চন্দ্র রায় (৩৫), পিতা শ্রী রাজেশ^র চন্দ্র রায়, সাং আশেকপুর হিন্দুপাড়া, ৩। ড্রাইভার শ্রী বিষ্ণ মহন্ত (২৫), পিতা শ্রী নীল কমল চন্দ্র মহন্ত, সাং গন্ডগ্রাম কালিতলা মধ্যপাড়া, উভয় থানা শাজাহানপুর জেলা বগুড়াদ্বয়কে গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানা এলাকায় ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল মর্মে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ধুনটে ছেলের লাঠির আঘাতে মা আহত

বগুড়া  উত্তর ডটকম : (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট  প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটে ছেলের লাঠির আঘাতে এক মা সহ তিন জন আহত হয়েছে। সোমবার রাতে চৌকিবাড়ী গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

আহতরা হলো- চৌকিবাড়ী গ্রামের মৃত আজিমুদ্দিন শেখের স্ত্রী লতিরুন বেওয়া (৬৫), তার ছোট ছেলে জিলানী (৩৫) ও স্ত্রী আলেফা খাতুন (৩০)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লতিরুন বেওয়া বলেন, বাড়ীর পাশে আমার বড় ছেলে লোকমান শেখ কিছু কলার গাছ রোপন করে। সেই কলার গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এসময় আমি রান্নার জন্য গাছের শুকনা পাতা জোগাড় করে ওই কলার গাছের পাশ দিয়ে বাড়ীতে ফিরে যাই। পরে তার বড় ছেলে লোকমান শেখ কলার গাছ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে আমাকে গালাগালি করতে থাকে। 
এসময় প্রতিবাদ করলে সে আমাকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে। আমার চিংকারে আমার ছোট ছেলে জিলানী ও তার স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাদেরকেও সে মারপিটে আহত করে। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফারুকুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Monday, January 28, 2019

বগুড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবতির মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া।

বগুড়া উত্তর ডটকম: বগুড়া শিবগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবতির মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া।


জানা যায় শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া তেলিপাড়া গ্রামের সাজুর  কন্যা সারমিন আক্তার (১৯) পরিবারের সদস্যর উপর অভিভান করে সোমবার দূপূর ১২ টার দিকে সবার  অগোচরে গলায় ওড়না দিয়ে তীরে সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করে। 

বিষয়টি শিবগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ছানোয়ার এর  নির্দেশে এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। পরিবারের লোকজন জানায় বাড়িতে কেহ না থাকার সুযোগে সারমিন আক্তার গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে নিহতের নানা আশরাফ আলী থানায় ইউডি মামলা করেন। 

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ছানোয়ার এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা নেওয়া হয়েছে। সারমিন এর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরবর্তী আপলোড পেতে কমেন্ট_এবং_শেয়ার করে পাশে থাকুন।

এক ঘর পালানো কন্যা ও তার বাবার গল্প


বগুড়া উত্তর ডটকম: ২৬ জানুয়ারি রাত দশটা। নিজ অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজকর্ম সারছিলেন বগুড়া সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী। তার মুখে শোনা কথো গুলোই এখানে তুলে ধরা হলো, এমন সময় অফিসে এলো ছোটভাই সাংবাদিক নৃত্যশিল্পী সজল   এবং পরিচিত আরেক ভদ্রলোক হামিদ ভাই। তাদের সাথে এক ভদ্রলোক একজন ভদ্রমহিলা এবং একটি বোরকাচ্ছাদিত বালিকা। বয়স ১৩/১৪ । 

সজলকে জিজ্ঞাসা করলাম ঘটনা কি? তখন সাথের লোকটি কথা বলা শুরু করলেন। তার ভাষ্যমতে তার নাম মোঃ সৌখিন মিয়া। তিনি বগুড়া ময়মনসিংহ রুটের যুগান্তর বাসের একজন সুপারভাইজার। বাড়ি বগুড়া সদরের নুনগোলা ইউনিয়নে। 

গত ১৭ তারিখে তার বাস ময়মনসিংহ থেকে ছাড়ার সময় এই মেয়েটি উঠেছিল পাবনা যাবার নাম করে। মেয়েটির হাটিকুমরুল চাররাস্তা (সিরাজগঞ্জ রোড) মোড়ে নামার কথা ছিল। আসার পথে এলেঙ্গা এবং অন্যান্য এলাকায় যানজটের কারনে গাড়ি সিরাজগঞ্জ রোডে আসতে রাত ১১ টা বেজে যায়। 

নামার সময় মেয়েটা কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। সে নামতে রাজি না হওয়ায় সুপারভাইজার তাকে জিজ্ঞেস করে যে তার সাথে যাবে কিনা। মেয়েটা রাজি হয়ে তার সাথে তার বাড়িতে চলে আসে।   


সুপারভাইজার সাহেবের দুই মেয়ে একছেলে। ছেলেটা প্রতিবন্ধী। বড় মেয়ে সন্তানসম্ভবা হওয়ায় তার স্ত্রী ব্যস্ত ছিলেন। মেয়েটি সেই বাড়িতে গিয়ে বাড়ির মেয়ের মতো মিশে গেল। রান্নাবান্না ঘরকন্না সবই করছিল। 

বিষয়টা যে থানাতে অবগত করা উচিৎ তা সুপারভাইজার বা তার পরিবারের কারো মাথাতেই আসে নাই। দশদিন পর তাদের কানে পানি যায়। বিষয়টা সজলকে জানালে সজল তাদের নিয়ে আমার অফিসে আসে। 


আমি মেয়েটির সাথে কথা শুরু করলাম। খুবই লাজুক, কথাই বলতে চায় না। কোন রকমে তার মুখ দিয়ে বের করালাম তার নাম, পিতার নাম। তার বাড়ি ময়মনসিংহের আরোংবাজ। সাথে সাথে ওসি কোতোয়ালি ময়মনসিংহের সাথে কথা বললাম। তিনি খুব দৃঢ়তার সাথে বললেন এই নামে ময়মনসিংহ সদরে কোন জায়গা নাই। ফুলবাড়ি ফাড়ির ইনচার্জ আমবারকে বললাম খোঁজ নিতে। সে অনেকদিন সেখানে ছিল। সেও খোঁজখবর নিয়ে বলল এই নামের কোন জায়গা ময়মনসিংহে নাই।  


মেয়েটির সাথে আবার কথা বলা শুরু করলাম। এবার তার কাছ থেকে জানলাম সে একটা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। মাদ্রাসার নাম নারায়ণডহর। জিজ্ঞাসা করলাম আশেপাশে বড় কোন বাজার আছে। সে বলল পূর্বধলা বাজার আছে। গুগল ম্যাপের সহযোগিতায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার পাশে নারায়ণডহর পাওয়া গেল। 

ফোন করলাম ওসি পূর্বধলাকে। খুলে বললাম ঘটনা। তিনি একটু সময় নিলেন। কিছুক্ষণ পর ফোন করে বললেন ১৯ জানুয়ারি একটা মিসিং জিডি হয়েছে। ভিক্টিমের নাম মিলে গেল কিন্তু বাবার নাম মিলল না।  


মেয়েটিকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলাম। এবার আমার সাথে যোগ দিলেন ওসি সদর জনাব এসএম বদিউজ্জামান। দুজনের সম্মিলিত জিজ্ঞাসাবাদে সে বাবার নামের কথা স্বীকার করল, কেন বাড়ি থেকে পালিয়েছে তাও বলল। আবার ফোন করলাম ওসি পূর্বধলাকে। জানালাম সবকিছু। তিনি মেয়েটির বাড়িতে খবর দিলেন। 


২৭ তারিখ সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবা তার সাথে দুইজন লোক নিয়ে থানায় এসে হাজির। বাবা মেয়ের মিলন হলো, সৃষ্টি হলো এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের। বাবার সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি গাজীপুরে একটা ছোট চায়ের দোকান চালান, তার স্ত্রী গার্মেন্টসে কাজ করে। মেয়েটা তার দাদার সাথে গ্রামের বাড়ি লাউজানা, পূর্বধলায় থাকে।

 দাদা বকা দেয়ায় সে অভিমান করে মা বাবার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে ভুল করে বগুড়ার গাড়িতে উঠে পড়ে। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী মেয়েটা হারানোর পর থেকে তাদের বাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। 


(ছবিতে মেয়েটিকে তার বাবার সাথে এবং আমার সাথে দেখা দেখা যাচ্ছে, বাবা মেয়ের অনুমতি নিয়ে তাদের ছবি প্রকাশ করা হলো)