Friday, January 11, 2019

বগুড়ায় ১২ বোতল ফেনসিডিল সহ গ্রেফতার ২

বগুড়া উত্তর ডটকম : বগুড়ায় এবার নারী মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় আরেকটি নাম যুক্ত করলো উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি। ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে একজন নারী।

উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এস আই আব্দুল কুদ্দুস, এএসআই মেহেদী হাসান, মহুবার রহমান, এটিএসআই সোহেল রানা ও আনিস সহ একদল পুলিশ বৃহস্পতিবার বগুড়া সদরের রামশহর ও হাজরাদিঘী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে।

তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বগুড়া সদরের  গোকুল ইউনিয়নের রামশহর পশ্চিম পাড়া এলাকার জনৈক আবেদ আলীর পুত্র রেজাউল করিম (২৯) ও হাজরাদিঘী আকন্দপাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী‌ শামিম এর স্ত্রী চম্পা বেগম (২২)।

কাহালুর নাগর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটিকাটার মহোৎসব

বগুড়া উত্তর ডটকম,  কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার কাহালু, শিবগঞ্জ ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজরীত সেই ছোট নাগর নদীতে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন ও ড্রেজার দিয়ে মাটিকাটার মহোৎসব চলছে।

নদীর আশে-পাশের মানুষ ফসলী জমি এবং বসত বাড়ির ক্ষতির আশঙ্কায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার মতো অনেক কর্মসূচী পালন করলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন এবং মাটিকাটা।

অবৈধভাবে যারা দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত বালু উত্তোলন ও মাটি কাটছে তাদের বিরুদ্ধে আইগত কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে প্রতি বছর ক্ষতির মুখে পড়ছেন এই নদীর তীরবতী মানুষ। প্রতি বছরই আমন মৌসুমে চাষিরা পড়েন মহাবিপাকে।

বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়ে ও সরোজমিনে দেখা গেছে কাহালু উপজেলার কালীতলা, শিবতলা, ঘোন কালাই, আটালিয়া, কাশ্মিমালা, ঝিনাই ও টিটিয়াসহ নাগর নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটছে। তারা ১৫/২০ ফিট গভীর করে ট্রাকে ট্রাকে মাটি নিয়ে যাচ্ছে।

এই মাটি গুলো যাচ্ছে আশে-পাশের ইটভাটা গুলোতে। আর বালু বিক্রি করছে যারা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে তাদের কাছে। ইতিপূর্বে মদনায় গ্রামের মানুষ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়াসহ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার মতো কর্মসূচী পালন করেছে এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটিকাটা বন্ধের জন্য। তারপরেও বন্ধ হয়নি নাগর নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মাটিকাটা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত রহমান জানান, নির্বাচনের কারনে অভিযান কিছুটা শিথিল ছিলো। নাগর নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মাটিকাটা বন্ধে শিঘ্রই অভিযান চালানো হবে।

Thursday, January 10, 2019

বগুড়ায় শুরু হয়েছে নয় দিনব্যাপী আঞ্চলিক ইজতেমা

 

বগুড়ার ধুনট পৌরসভা এলাকায় শুরু হয়েছে নয় দিনব্যাপী আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে পৌরসভার পূর্বভরনশাহী গ্রামে এ ইজতেমা শুরু হয়।

টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে এবারই প্রথম ধুনট পৌর এলাকায় এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ইজতেমার ময়দান পরিদর্শন করেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজিউর রহমান। 

এ দিকে বুধবার বিকাল থেকেই মুসল্লিদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে ইজতেমা ময়দান। ইজতেমার আশপাশে মুসল্লিদের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের দোকানপাটও গড়ে উঠেছে। 

ইজতেমার সূরা সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, নয় দিনব্যাপী দেশ ও বিদেশের ওলামায়ে একরামগণ কুরআন ও হাদিসের আলোকে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বয়ান করবেন।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির সদস্য পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ্ জানান, ইজতেমায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে চাঁদ, জর্ডান, তিউনিশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের বিদেশি মুসল্লিগণ এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিগণ জামাত বন্দি হয়ে অংশ নিচ্ছেন। ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লি এবং মহিলাদের জন্য পৃথক থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। 

শনিবার ফজরের নামাজ আদায়ের পর আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আঞ্চলিক ইজতেমা। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজিউর রহমান বলেন, ইজতেমা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

গ্রুপ অ্যাডমিনদের অর্থ আয়ের সুবিধা দিচ্ছে ফেসবুক

অনলাইন ডেস্ক:  গ্রুপ অ্যাডমিনদের অর্থ আয়ের সুবিধা দিচ্ছে ফেসবুক  ফেসবুক গ্রুপ অ্যাডমিনদের জন্য অর্থ আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুক গ্রুপের জন্য সাবস্ক্রিপশন মডেল আনার কথা বলেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। বড় ফেসবুক গ্রুপগুলোতে সদস্য হতে গেলে গ্রুপ অ্যাডমিনরা সদস্যদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সাবস্ক্রিপশন ফি নিতে পারবেন। 

এক ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রুপ সাবস্ক্রিপশন চালুর বিষয়টি ঘোষণা করে ফেসবুক। এর আগে ফেসবুক গ্রুপগুলোতে বিনা মূল্যে ঢোকার সুবিধা ছিল।  এখন অ্যাডমিনরা প্রিমিয়াম সাব গ্রুপ চালুর সুবিধা পেতে পারেন। এতে প্রিমিয়াম সাব গ্রুপের সদস্যরা অ্যাডমিনদের কাছ থেকে আরও মানসম্পন্ন কনটেন্ট পাবেন। তবে অর্থের বিনিময়ে অনেকেই এই সুবিধাটি নিতে চাইবেন না। ফলে গ্রুপগুলো থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।  

 ফেসবুক জানিয়েছে, যে অ্যাডমিনরা গ্রুপগুলোকে বড় করে তুলতে চায় এবং এর পেছনে নিজের সময় ব্যয় করে, তাদের আয়ের সুযোগ করে দিতেই নতুন টুলটি যুক্ত করা হচ্ছে। সাব গ্রুপে আরও বেশি করে পোস্ট দিয়ে, ভিডিও তৈরি করে, অনলাইন মিটআপ ও ইভেন্ট তৈরির মাধ্যমে এ টাকা আয় করা যাবে।  আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সাবস্ক্রিপশন বিষয়টি ব্যবস্থপনার সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারী। তথ্যসূত্র: ইকোনোমিক টাইমস।

ধুনটে দেশী-বিদেশী মুসল্লিদের পদচারনায় মুখরিত বিশ্ব ইজতেমার ময়দান

বগুড়া উত্তর ডটকম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার পূর্বভরনশাহী গ্রামের ইছামতি নদীর তীরে তিন দিন ব্যাপি আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ আদায়ের পর বগুড়া মার্কাস মসজিদের মুরব্বী মুফতি মাওলানা আলাউদ্দিন সাহেবের উদ্বোধনী আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হয়। ইজতেমা শুরু এক দিন আগে থেকেই দেশী-বিদেশী মুসল্লিগনের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে ইজতেমা ময়দান। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ইজতেমার ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ইজতেমার আশপাশে মুসল্লিগনের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের দোকানপাটও গড়ে উঠেছে।

ইজতেমার সূরা সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে ঢাকার কাকরাইল মসজিদের তত্বাবধায়নে এই প্রথম পৌর এলাকার ইছামতি নদীর তীরে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইজতেমায় চাঁদ, জর্ডান, মরক্ক ও তিউনিশিয়া সহ আরো কয়েকটি দেশের বিদেশী মুসল্লিগন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিগণ জামাত বন্দি হয়ে অংশ নিয়েছেন। ইজতেমায় বাদ জোহর বয়ান করেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের মুরব্বী মাওলানা আব্দুর রহিম সাহেব।

তিনি তার বয়ানে ঈমান ও আমল মজবুত করতে মুসল্লিদের হযরত মোহাম্মদের (সা:) সুন্নত ও আদর্শ নিয়ে আল্লাহ্র রাস্তায় বের হওয়ার আহবান জানান। এছাড়া বাদ আছর মাওলানা রেজাউল করিম সাহেব এবং বাদ মাগরিব ঢাকার কাকরাইল মসজিদের মুরব্বী মাওলানা আব্দুল মতিন সাহেব বয়ান করেন। এসময় মুসল্লিদের সুবাহান আল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহু আকবর ধ্বনীতে মুখরিত হয় ইজতেমা ময়দান। শনিবার ফজরের নামাজ আদায়ের পর আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইজতেমার ময়দান পরিদর্শন করেন বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম। ইজতেমা পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজতেমা প্রাঙ্গনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ২০০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

বগুড়ার রানার প্লাজা প্রথম তালায় অপ্সরী ফ্যাশানে চুরি (ভিডিও সহ)

বগুড়ার রানার প্লাজা প্রথম তালায় অপ্সরী ফ্যাশানে চুরি

.. সবাই সাবধানে থাকুন এই কামনায়।

... ভিডিও দেখুন এখানে 



বগুড়ার শেরপুরে ‘ভূতের বাড়ি’র সন্ধান, রাত হলেই বিছানাসহ উল্টে যায় খাট!

শেরপুর একবিংশ শতাব্দির এ যুগে পৃথিবী যখন এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে, বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের সাথে তাল মিলিয়ে সমান তালে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। প্রবেশ করেছে ডিজিটাল যুগে, যেখানে বিশ্ব মানুয়ের হাতের মুঠোয়। এই ডিজিটাল যুগে ভুতপ্রেত বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায়না। অথচ বর্তমান সময়ে এমন একটি ভৌতিক বাড়ীর সন্ধান মিলেছে বগুড়ার শেরপুরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুর-নন্দীগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক ধরে কিছুদুর এগিয়ে গেলে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বানিয়া গোন্দাইল গ্রাম। এই গ্রামের শুরুতেই রাস্তার ডান পাশে চোখে পড়ে টিনসেড একটি সেমি পাকা বাড়ি। বাড়িটির দরজা জানালা সম্প্রতি খুলে ফেলা হয়েছে। লোকমুখে এই বাড়িটি স্থানীয় লোকজনের কাছে ভুতের বাড়ি নামে পরিচিত।

ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি এলাকার সিরাজ আকন্দ প্রায় ৬-৭ বছর আগে ৮ কক্ষ বিশিষ্ট এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটি নির্মাণের পর থেকেই সিরাজ আকন্দ পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করা শুরু করেন। কিন্তু ২-৩ দিন থাকার পর রাতে বিছানায় ঘুমাতে গেলে অদৃশ্যভাবে বিছানাসহ খাট উল্টে যায় এবং পানি ঝড়তে থাকে। এভাবে কয়দিন দেখার পর ভীত হয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করায় বর্তমানে এই বাড়িটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

বাড়িটির আশে পাশে বসবাসরত লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশ কিছুদিন যাবৎ ওই বাড়ির ভিতর থেকে অদ্ভুদ কিছু শব্দ শুনা যায়, গভীর রাতে ওই পথ দিয়ে চলাচলরত লোকজন প্রায়ই বিভিন্ন পশু দেখতে পায় এবং তা মুহুর্তেই অদৃশ্য হয়ে যায়। এছাড়াও উক্ত বাড়ীর ভেতর এক ঘরের জিনিসপত্র অন্যঘরে কে বা কারা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অনেকেই বলেছেন। বর্তমান বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী ও মো. সামছুল আলমসহ অনেকের সাথে কথা বললে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন জানান, ‘ধুনটের গোসাইবাড়ী এলাকা থেকে এসে সিরাজ আকন্দ নামের এক ব্যাক্তি বাড়িটি নির্মাণ করার পর বসবাস শুরু করলেও তিনি কথিত ভুতের উপদ্রপে বাড়িটিতে থাকতে পারেননি। পরে সেখানে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা করলেও ছাত্ররা ভূতের উপদ্রবে থাকতে পারেনি। তাই এখন বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’

এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক সিরাজ আকন্দ  বলেন, “ওখানে বাড়ি করে বসবাস করতে চেয়েছিলাম কিন্তু রাতের বেলায় মনে হয় খাট বিছানা উল্টে যায়। ভয়ে আমার পরিবার নিয়ে চলে এসেছি। পরে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা করেও তারা থাকতে পারেনি।”

ধর্ষণচেষ্টা ব্যার্থ হয়েই ৩ ফুটফুটে শিশুকে হত্যা করে যৌনদস্যুরা


বগুড়া উত্তর ডটকম: গোলাম রব্বানী শিপন, স্টাফ নিউজ: চাঞ্চল্যকর সবে স্কুলে যাওয়া শুরু করা শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা (৫) ও নুসরাত জাহান (৪) হত্যার কারণ উদ্ঘাটিত হয়েছে। খেলারত ওই দুই শিশুকে লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেওয়ার কথা বলে গোলাম মোস্তফা তার ঘরে নিয়ে যায়।


পূর্বেই তার ফুফাতো ভাই আজুিল বাওনিয়াকে ডেকে নিয়ে আসে মোস্তফা। এরপর তারা শিশু দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় শিশুরা চিৎকার করতে শুরু করে। আর চিৎকারের শব্দ যাতে বাইরে না যেতে পারে সে জন্য জোরে গান বাজায় মোস্তফা। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তারা শ্বাসরোধে দুই শিশুকে হত্যা করে।

এদিকে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া এলাকায় দুই বছরের শিশু আয়েশাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় নাহিদ। পরে সে ৩তলা ভবনের জানালা দিয়ে শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করে। নাহিদের মেয়ে বুশরা পুলিশকে সহযোগিতা করার কারণে হত্যা রহস্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এই দুই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে।

মিন্টো রোডে পুলিশের গণমাধ্যম শাখায় এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রথমে ডেমরায় দুই শিশু হত্যার ঘটনা সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ডেমরার কোনাপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে সোমবার বিকেলে নিখোঁজ হয় দোলা ও নুসরাত। তাদের খোঁজে এলাকায় মাইকিং করা হয়। রাতে কোনাপাড়ার শাহজালাল রোডের মোস্তফার ঘর থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। পরদিন মঙ্গলবার রাতে যাত্রাবাড়ীর ভাঙাপ্রেস ও ডেমরার মোল্লাব্রিজ এলাকা থেকে মোস্তফা ও আজিজুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিসি ফরিদ উদ্দিন জানান, লাশ উদ্ধারের পর তাঁরা ধারণা করেছিলেন, অত ছোট বাচ্চাদের মুক্তিপণের জন্য হয়তো নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে দুজন বলেছে, ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে তারা নুসরাত আর দোলাকে সোমবার দুপুরে বাসায় নিয়ে যায়। লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেওয়ার নাম করে প্রথমে তাদের বাসায় ডেকে আনা হয়। এরপর আজিজুল ও মোস্তফা ইয়াবা সেবন করে উচ্চশব্দে গান ছাড়ে। পরে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুরা চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে দোলাকে গলাটিপে হত্যা করে আজিজুল এবং নুসরাতকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোস্তফা।

হত্যার পর আজিজুল পালিয়ে যায় আর মোস্তফা দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে বাসায় থাকে। একপর্যায়ে খাটের নিচে মরদেহ রেখে দেয়। মোস্তফার স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী আঁখি সন্ধ্যার দিকে কারখানা থেকে বাসায় ফিরে স্বামীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখতে পান। মেঝেতে শিশুদের সেন্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘সন্ধ্যায় মোস্তফার স্ত্রী আঁখি বাসায় ফিরে স্বামীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সন্দিহান হয়ে ওঠেন। আঁখি প্রতিবেশীর বাসায় গেলে ওই ফাঁকে মোস্তফা বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ওই বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির লাশ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা এবং আরো কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। মোস্তফা সিরামিকের কারখানায় ও আজিজুল একটি বেকারিতে কাজ করে বলে জানায়। ’

ডিসি বলেন, শিশুরা চিৎকার করলেও উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে বাইরের কেউ শুনতে পায়নি। শিশু দুটি নার্সারিতে পড়ত। তাদের সাজিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নেয় মোস্তফা।

ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত কি না জানতে চাইলে ফরিদ উদ্দিন বলেন, মোস্তফা ফোন করে আগেই আজিজুলকে বাসায় ডেকে নেয়। তার মানে বোঝা যাচ্ছে এখানে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল। তারা একে অপরের মামাতো-ফুফাতো ভাই।
তিনি আরো জানান, পেশায় সিরামিক মিস্ত্রি মোস্তফার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ডাকাতিচেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর, আর আজিজুলের বাড়ি ফরিদপুরে। এ ঘটনায় প্রথমে মোস্তফার স্ত্রী আঁখি ও শ্যালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আয়েশাকে হত্যা করে নাহিদ গেণ্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের পাশে দীননাথ সেন রোডের একটি বাসায় গত শনিবার শিশু আয়েশাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় নাহিদ। পরে সে তিনতলার জানালা দিয়ে শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাহিদের মেয়ে বুশরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

ডিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, শনিবার লাশ পাওয়ার পরদিন নিহত আয়েশার বাবা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ অভিযোগ এনে প্রতিবেশী নাহিদকে আসামি করে গেণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার আসামি নাহিদকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে নিজ বাসার তৃতীয় তলার খোলা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এতে তার দুই পা ভেঙে যায়। নাহিদ এখন পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ জানিয়েছে, প্রতিবেশী শিশু আয়েশাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে বাসায় ডেকে নেয় সে। পরে শিশুটিকে তিনতলা থেকে ফেলে হত্যা করে। তার থেকে এর বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি, কারণ সে অনেক বেশি অসুস্থ। ’

ডিসি জানান, শিশু আয়েশা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে এগিয়ে আসে গ্রেপ্তারকৃত আসামি নাহিদের সপ্তম শ্রেণিতে পড়া মেয়ে বুশরা। গত মঙ্গলবার বাবার কুকর্মের কথা তুলে ধরে আদালতে জবানবন্দি দেয় সে। আদালতে বুশরা জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাসার বারান্দায় বসে ছিল সে। এ সময় বাবার শোবার কক্ষ থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় সে। এরপর সে বাবার কক্ষে যায়। দরজা খুলে দেখে, তার বাবা বিছানায় আর আয়েশা তার কোলে কাঁদছে। তখন নাহিদ বুশরাকে ধমক দিয়ে বলে, ‘এই তুই এখানে এসেছিস কেন?’ তখন বুশরা অন্য রুমে চলে যায়। এরপর নাহিদ আয়েশাকে তিনতলার খোলা জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। ’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, পাঁচ বছর আগে নাহিদের স্ত্রী মারা যায়। এরপর সে আর বিয়ে করেনি। ১২ বছরের মেয়েকে নিয়ে নাহিদ ওই বাসার তৃতীয় তলায় থাকে। আর গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডের একটি টিনশেড বাড়িতে বাবা-মা ও বোনদের সঙ্গে থাকত শিশু আয়েশা (২)। প্রতিদিন সকালে আয়েশার মা-বাবা কাজে চলে যেতেন। আর দিনের বিভিন্ন সময় গেণ্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনের গলিতে চারতলা ভবনের সামনে খেলা করত সে।